গঠনতন্ত্র

জাপানবাংলাদেশ প্রেস ক্লাব

(জেবিপিসি)

ভূমিকা

জাপানে বিভিন্ন সময়ে প্রবাসীদের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও আঞ্চলিক সংগঠন গড়ে উঠলেও সাংবাদিক ও সমমনাদের নিয়ে কোন ক্লাব গড়ে ওঠেনি ২০১৮ সাল পর্যন্ত।   

জাপান প্রবাসী সাংবাদিকদের পেশা ভিত্তিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড আরও জোরদার, রুচির উন্নয়ন ও চর্চা, তাদের সাহিত্য ও শিল্প প্রতিভার বিকাশ ও উন্নয়ন এবং সামাজিক ও সাংগঠনিকভাবে সুসংগঠিত করার লক্ষ্য নিয়ে জাপান-বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন গোলাম মাসুম জিকো, জেড এম আবু সিনা, প্রবীর বিকাশ সরকার, পি আর প্লাসিড, মাসুদুর রহমান। তাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে এগিয়ে আসেন প্রায় আরও বিশ জন সদস্য। তাদেরকে নিয়ে ২০১৮ সালের জুলাই মাসের ১৫ তারিখ রোববার তারা টোকিও এর আকাবানে শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে সাধারণ সভার মাধ্যমে ক্লাবের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেন।  

 সংগঠনের নামকরণ

ধারা ১ এই সংগঠনের নাম, ‘জাপান-বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব’ সংক্ষপে ‘জেবিপিসি’। নামে ব্যবহার করতে হবে। ইংরেজীতে Japan-Bangladesh Press Club (JBPC)। এটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক এবং ধর্মনিরপেক্ষ একটি সংগঠন।

সংগঠনের অবস্থান ও ঠিকানা

ধারা ২– ‘জাপানবাংলাদেশ প্রেস ক্লাব’ প্রধান কার্যালয় জাপানে থাকবে। প্রয়োজন বোধে, সাধারণ সভার সিদ্ধান্তক্রমে জাপান অথবা বাংলাদেশের যে কোন স্থানে সংগঠনের শাখা অফিস খোলা যাবে।

আদর্শ ও উদ্দেশ্য

ধারা ৩ কজাপান প্রবাসী সাংবাদিক, লেখক এবং গণমাধ্যমকর্মীদের পেশা ভিত্তিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড আরও জোরদার, রুচির উন্নয়ন ও চর্চা, তাদের সাহিত্য ও শিল্প প্রতিভার বিকাশ ও উন্নয়ন এবং সামাজিক ও সাংগঠনিকভাবে সুসংগঠিত করা।

ধারা – সুস্থ সাংবাদিকতা ও সাহিত্যের উন্নয়ন এবং ঐতিহ্য গড়ে তোলা। 

ধারা – গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা এবং সভাসমাবেশ, সিম্পোজিয়াম, নাট্যানুষ্ঠান, ক্রীড়া ও খেলাধুলার আয়োজন এবং সংশ্লিষ্ট অনান্য তৎপরতায় সাংবাদিকদের সুযোগসুবিধা বিধান করা।

ধারা – বাংলাদেশে এবং বিদেশে সাংবাদিকদের সফরের আয়োজন করা এবং পারস্পারিক শুভেচ্ছা ও সমঝোতার উন্নয়নে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের জাপান এবং জাপানি সাংবাদিকদের বাংলাদেশ সফরে আমন্ত্রণ করা, সুযোগসুবিধা ও পরামর্শ প্রদান করা। । 

ধারা – নানাবিধ অনুষ্ঠান ও কার্যক্রমের মাধ্যমে জাপান-বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব জাপান প্রবাসীদের মাঝে সৌহার্দ-সম্প্রীতি বৃদ্ধি করা ও তাঁদের ঐক্যবদ্ধ রাখা।

ধারা ৩ – জাপানে বসবাসরত সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহে সহায়তা প্রদান করা। তাঁদের জন্য শিক্ষা, সেবামূলক কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা।

ধারা ৩ একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক, অলাভজনক এবং ধর্মনিরপেক্ষ সংগঠন হিসাবে এর গ্রহণযোগ্যতা ও স্বকীয়তা বজায় রাখা।

সংগঠনের সদস্য /সদস্যা হওয়ার নিয়মাবলী

জাপান-বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব জাপানের তিন ধরনের সদস্য/সদস্যা থাকবেন।

(ক) সাধারণ সদস্য/সদস্যা

(খ) উপদেষ্টা সদস্য /সদস্যা

(গ) প্রতিষ্ঠাতা সদস্য /সদস্যা

ধারা ৪ কসাধারণ সদস্য/ সদস্যা

জাপানে বসবাসরত জাপান-বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব এর সদস্য ফর্ম পুরণ এবং নিবিন্ধন ফি পরিশোধ করে প্রাথমিক সদস্য/সদস্যা হতে পারেন। প্রাথমিক সদস্য/সদস্যা পদ গ্রহণ করার পর সংগঠনের নিয়মাবলী মেনে তিনি সাধারণ সদস্য/সদস্যা হওয়ার জন্য বিবেচিত হবেন। ব্যক্তিগত আচার-আচরণ, সংগঠনের প্রতি একনিষ্ঠতা, সাংগঠনিক কার্যক্রমে উপস্থিতির হার ইত্যাদি বিবেচনা করে,  প্রাথমিক  সদস্য/সদস্যাকে কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় সাধারণ সদস্য/সদস্যা হিসাবে তালিকাভুক্তির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে ও পরবর্তীতে তা সাধারণ সভায় অনুমোদিত হবে।

ধারা ৪ খউপদেষ্টা  সদস্য /সদস্যা

জাপান-বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব এর যে কোন সদস্য, ক্লাবের প্রতি বন্ধুভাবাপন্ন, শিক্ষিত (গ্র্যাজুয়েট) জাপানি ও বাংলাদেশি নাগরিক এই সংগঠনের উপদেষ্টা সদস্য /সদস্যা হতে পারবেন। তবে উপদেষ্টা নিয়োগ এবং তাদের মেয়াদকাল সম্পূর্ণভাবে সাধারণ সদস্য/সদস্যাদের একতিয়ার ভুক্ত থাকবে যা সাধারণ সভাতে গৃহীত হতে হবে।   

ধারা ৪ খপ্রতিষ্ঠাতা সদস্য /সদস্যা

গোলাম মাসুম জিকো, জেড এম আবু সিনা, প্রবীর বিকাশ সরকার, পি আর প্লাসিড, মসুদুর রহমান এই পাঁচজন ব্যক্তি সংগঠনের আজীবন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসাবে থাকবেন এবং কোনো অবস্থাতেই প্রতিষ্ঠাতা সদস্যকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়া যাবে না। তবে প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের কেউ যদি সংগঠনের অকল্যাণে কাজ করে যা সংগঠনের জন্য ক্ষতিকর প্রমাণিত হয় তবে তাকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য যথাযথ প্রমাণ সাপেক্ষে বিশেষ কমিটি করে দুই তৃতীয়াংশ কার্যকরী পরিষদের সাক্ষরিত আবেদন পত্রের মাধ্যমে সাধারণ সভাতে প্রস্তাবের ভিত্তিতে সাধারণ সভায় উপস্থিত কোরামের ভোটে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। নতুন করে কাউকে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য বানানো যাবে না। প্রতিষ্ঠাতা সদস্যরা উপদেষ্টা পরিষদ নির্বাচন করবেন এবং সংগঠন যদি কোন ধরনের বড় ক্ষতির সম্মুখীন হয় সেক্ষেত্রে সংগঠনের সার্বিক মঙ্গল সাধনের জন্য জরুরি সাধারন সভা ডাকতে পারবে এবং সংবিধান মোতাবেক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে।   

৫। সদস্য /সদস্যাদের অধিকার

ধারা ৫ কজাপান-বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব এর যে কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রমে সাধারণ সদস্য/সদস্যাদের অংশগ্রহণ করার অধিকার থাকবে। সদস্য/সদস্যাগণ কার্যনির্বাহী পরিষদের অনুমোদনক্রমে, যোগ্যতার ভিত্তিতে কোনো অনুষ্ঠানে বা কর্মসূচীতে নিজের পারঙ্গমতা বা প্রতিভা উপস্থাপন করতে পারবেন।

ধারা ৫ খ সাধারণ সদস্য/সদস্যাগণ সংগঠনের নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন। কোনো কারণে সাধারণ সভায় (বা নির্বাচনী সভায়) উপস্থিত না থাকতে পারলে তা সভার সাতদিন আগে কার্যনির্বাহী পরিষদকে লিখিতভাবে অবহিত করতে হবে।

 সদস্য/সদস্যাপদত্যাগ বা পদ বাতিল

ধারা ৬ ক     জাপান-বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব এর যে কোনো সাধারণ সদস্য/সদস্যা ব্যক্তিগত অথবা অন্য কোন কারণে পদত্যাগ করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে সভাপতি বরাবর লিখিত আবেদন করতে হবে। পরবর্তী কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় সভাপতি তা উপস্থাপন করবেন ও সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। গৃহীত সিদ্ধান্ত পরবর্তী সাধারণ সভায় উপস্থাপন করার মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হবে।

ধারা ৬ খ       কার্যনির্বাহী পরিষদের কোনো সদস্য /সদস্যা ব্যক্তিগত অথবা অন্য কোনো কারণে সংগঠনের সভাপতি বরাবর লিখিত আবেদন করে কার্যনির্বাহী পরিষদ থেকে পদত্যাগের আবেদন করতে পারেন। পরবর্তী কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় সভাপতি তা উপস্থান করবেন। এ ব্যাপারে কার্যনির্বাহী পরিষদ, সভায় উপস্থিত সদস্য/সদস্যাদের আলোচনা সাপেক্ষে ও সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে পদত্যাগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। পদত্যাগের কারণ যুক্তিযুক্ত না হলে পরবর্তী নতুন কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত উক্ত সদস্য/সদস্যা স্বীয় পদে দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য থাকবেন।

ধারা ৬ গ       সভাপতি পদত্যাগ করতে চাইলে যথাযোগ্য কারণ উল্লেখ পূর্বক সহ-সভাপতি বরাবর লিখিত আবেদন পেশ করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে, সহ-সভাপতি পূর্ববর্তী (৬ খ) ধারা অনুসরণ করবেন।

ধারা ৬ ঘ      কার্যনির্বাহী পরিষদের কোনো সদস্য/সদস্যা বিনা নোটিশে কার্যনির্বাহী পরিষদের পরপর তিনটি সভায় অনুপস্থিত থাকলে তাঁর কার্যনির্বাহী পরিষদের পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে। সেই ক্ষেত্রে কার্যনির্বাহী পরিষদ, সাধারণ সদস্য/সদস্যা থেকে অন্য কাউকে কো-অপ করতে পারবেন। তবে তা অবশ্যই কার্যনির্বাহী পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে হতে হবে এবং পরবর্তী সাধারণ সভায় অনুমোদিত হতে হবে।

ধারা ৬ ঙ       কোনো কারণে সভাপতির পদ বাতিল হলে পরবর্তী সাধারণ সভার মাধ্যমে নতুন সভাপতি নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত সিনিয়র সহ-সভাপতি, সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

ধারা ৬ চ       কোনো সাধারণ সদস্য/সদস্যা মাসিক চাঁদা একবছর যাবত পরিশোধ না করলে তার সদস্য/সদস্যা পদ আপনা থেকেই বাতিল বলে গণ্য হবে। এমতাবস্থায় উক্ত সদস্য/সদস্যাকে আবার নিবন্ধন ফি দিয়ে এবং বকেয়া চাঁদা পরিশোধ করে সদস্য/সদস্যা পদ নবায়ন করতে হবে।

ধারা ৬ ছ       কোনো সাধারণ সদস্য /সদস্যা সংগঠনের স্বার্থ পরিপন্থী  আচরণ করলে বা নিয়ম ভঙ্গ করলে কার্যনির্বাহী পরিষদ প্রথমে উক্ত সদস্য/সদস্যাকে মৌখিক এবং পরে লিখিতভাবে সর্তক করবে। সতর্কীকরণের তিন মাসের মধ্যে উক্ত সদস্য/সদস্যা তার আচরণ বা কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঘটালে, কার্যনির্বাহী পরিষদ উক্ত সদস্য/সদস্যা পদ বাতিল ঘোষণা পূর্বক পরবর্তী সাধারণ সভায় তা উপস্থাপন করবে।

সাংগঠনিক কাঠামো

জাপান-বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব এর সাংগঠনিক কাঠামো নিম্নরূপঃ

() সাধারণ সভা

() কার্যনির্বাহী পরিষদ

() উপদেষ্টা পরিষদ

() প্রতিষ্ঠাতা পরিষদ

() সাধারণ সভা

ধারা ৭ ক ০১ সাধারণ সভা জাপান-বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব এর সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। সাধারণ সভা সংগঠনের সকল নীতি নির্ধারণ করবে।

ধারা ৭ ক ০২ জাপান-বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের গঠনতন্ত্র পরিমার্জন কিংবা পরিবর্তন করতে পারবে।

ধারা ৭ ক ০৩ সাধারণ সভা কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠন করবে। সে জন্য সাধারণ সদস্য /সদস্যাদের/উপদেষ্টাদের মধ্য থেকে একজন করে, সর্বমোট তিনজনকে নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে।

ধারা ৭ ক ০৪ সাধারণ সভায় প্রস্তাবিত কোন কর্মসূচী গৃহীত হলে কার্যনির্বাহী পরিষদ তা পরিবর্তন করতে পারবে তবে তা বিশেষ প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং উপদেষ্টাদের মধ্যে আলোচনা এবং মেজরিটি মতামতের ভিত্তিতে পরিবর্তন করা যাবে।    

ধারা ৭ ক ০৫ সাধারণ সভায় সংগঠনের বাৎসরিক হিসাব নিকাশ দাখিল করতে হবে। পরিচালিত কার্যক্রমের জন্য কার্যনির্বাহী পরিষদ সাধারণ সভার কাছে জবাবদিহি থাকবে।

ধারা ৭ ক ০৬ কোনো বিতর্কিত বিষয় সাধারণ সভায় উপস্থাপন করতে হলে ন্যুনতম এক সপ্তাহ আগে কার্যনির্বাহী পরিষদের কাছে তা লিখিতভাবে জমা দিতে হবে। কার্যনির্বাহী পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সভাপতি তা উপস্থাপনা করবেন।

ধারা ৭ ক ০৭ প্রয়োজনবোধে বছরে একাধিক সাধারণ সভা আহবান করা যেতে পারে। তবে কমপক্ষে একটি বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হতে হবে। সাধারণ সভা আহবান করার দায়িত্ব পালন করবে কার্যনির্বাহী পরিষদ।

() কার্যনির্বাহী পরিষদ

ধারা ৭ খ ০১ সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য সাধারণ সদস্য/সদস্যাদের মধ্য থেকে নির্বাচন (ইলেকশন) অথবা নির্ধারণ (সিলেকশন) এর মাধ্যমে কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠন করা হবে।

ধারা ৭ খ ০২সাধারণ সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত/কর্মসূচী কার্যনির্বাহী পরিষদ বাস্তবায়ন করতে বাধ্য থাকবে।

ধারা ৭ খ ০৩ কেবলমাত্র জরুরি অবস্থায় কার্যনির্বাহী পরিষদ, পরিষদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য/সদস্যার সম্মতি নিয়ে কোনো তড়িৎ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে পারবে। সেই ক্ষেত্রে পরবর্তী সাধারণ সভায় উক্ত সিদ্ধান্ত উপস্থাপন করে অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে।

ধারা ৭ খ ০৪ কার্যনির্বাহী পরিষদের মেয়াদকাল দুই বৎসর। মেয়াদ শেষ হওয়ার কমপক্ষে তিন মাস আগে কার্যনির্বাহী পরিষদ, বার্ষিক সাধারণ সভা আহবান করা ও নির্বাচন কমিশন গঠন করার উদ্যোগ নেবে।

() উপদেষ্টা পরিষদ

ধারা ৭ গ ০১  জাপান-বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করার জন্য একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠিত হবে। উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য/সদস্যা সংখ্যা হবে সর্বোচ্চ পাঁচজন। উপদেষ্টা পরিষদে অন্তর্ভুক্ত হবার ক্ষেত্রে সেই সদস্য/সদস্যাকে সংগঠনের সাধারণ সদস্য/ সদস্যা হতে হবে।

ধারা ৭ গ ০২ সাধারণ সদস্যরা উপদেস্টা পরিষদ নির্বাচন করবেন তবে তা সাধারণ সভার মাধ্যমে সম্পাদন করতে হবে।    

ধারা ৭ গ ০৩উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য/সদস্যাগণ প্রয়োজনবোধে কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় উপস্থিত হয়ে তাঁদের মতামত প্রদান করতে পারবেন।

ধারা ৭ গ উপদেষ্টা পরিষদের কোনো সদস্য/সদস্যা কার্যনির্বাহী পরিষদের কোনো পদের জন্য নির্বাচন করতে পারবেন না। যদি নির্বাচন করতে চান সেই ক্ষেত্রে তাকে নির্বাচনের এক মাস আগে, (সভাপতি বরাবর) লিখিতভাবে  স্বীয় পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে।

() প্রতিষ্ঠাতা পরিষদ

ধারা ৪ খ- প্রতিষ্ঠাতা সদস্য / সদস্যা মোতাবেক।

কার্যনির্বাহী পরিষদের কাঠামো

সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য সাধারণ সদস্য/সদস্যাদের মধ্য থেকে এগারো সদস্য/সদস্যা বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠিত হবে।

১।      সভাপতি                                   -এক জন

২।      সহ-সভাপতি                               -এক জন

৩।      সাধারণ সম্পাদক                          -এক জন

৪।      সহ-সাধারণ সম্পাদক                      -এক জন

৫।      সাংগঠনিক সম্পাদক                       -এক জন

৬।      সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক                   -এক জন

৭।      অর্থ সম্পাদক                              -এক জন

৮।      প্রচার সম্পাদক                            -এক জন

৯।      সাংস্কৃতিক সম্পাদক                       -এক জন

১০।    সদস্য/সদস্যা                              -দুই জন

         সর্বমোট                             এগারো জন

কোনো সম্পাদকের অনুপস্থিতি কিংবা অপারগতায় সহ-সম্পাদক তাঁর দায়িত্ব পালন করবেন। সম্পাদক ও সহ-সম্পাদক দুইজনেরই অনুপস্থিতি কিংবা অপারগতায় কার্যনির্বাহী পরিষদের তিন সদস্য/সদস্যার কোনো এক সদস্য/সদস্যা, কার্যনির্বাহী পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে সম্পাদকদের দায়িত্ব পালন করবেন।

কার্যনির্বাহী পরিষদ সদস্য /সদস্যার দায়িত্ব ও কর্তব্য

ধারা ৯ ক–      সভাপতিঃ সভাপতি হবেন সংগঠনের কার্যনির্বাহী পরিষদের প্রধান নির্বাহী ও মুখপাত্র। পদাধিকার বলে তিনি সংগঠনের সকল সভায় সভাপতিত্ব করবেন। কাজের সুবিধার্থে সভাপতি কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য/সদস্যাদের মধ্য হতে কাউকে সভা পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করতে পারেন।

ধারা ৯ খ সহসভাপতিঃ সভাপতি বর্তমান থাকা অবস্থায় তিনজন সহ-সভাপতি সংগঠনের সকল কর্মসূচী বাস্তবায়নে সভাপতিকে সার্বিক সহযোগিতা করবেন। সভাপতির অনুপস্থিতিতে অথবা সভাপতি কোনো কারণে পদত্যাগ করলে অথবা সভাপতি কর্তৃক ক্ষমতা অর্পিত হলে, সহ-সভাপতিগণের মধ্য থেকে বয়স ও অভিজ্ঞতার বিবেচনায় সিনিয়র সহ-সভাপতি, সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

ধারা ৯ গ       সাধারণ সম্পাদক ও সহসাধারণ সম্পাদকঃ সাধারণ সম্পাদক অন্যান্যদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সংগঠনের বার্ষিক কর্মসূচী প্রণয়ন করবেন। তিনি সাধারণ সভা ও কার্যনির্বাহী পরিষদের সভার উপস্থাপনা করবেন। অন্যান্য সংগঠনের সাথে সমন্বয় রক্ষা করবেন। সংগঠনের পক্ষে বিবৃতি প্রদান করবেন। তিনি কার্যনির্বাহী পরিষদ ও সাধারণ সভার কার্য বিবরণ সংরক্ষনের দায়িত্ব পালন করবেন। সহ-সাধারণ সম্পাদক সকল কার্যক্রমে সাধারণ সম্পাদককে সহযোগিতা করবেন। সংগঠনের যাবতীয় নথি সংরক্ষণ করবেন। সংগঠনের সকল গোপনীয়তা রক্ষা করবেন। সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের অনুমতি সাপেক্ষে এবং সংগঠনের স্বার্থে সমিতির সদস্য/সদস্যাদের মধ্যে ঠিকানা, টেলিফোন নাম্বার বা অন্যান্য তথ্য বিনিময় করতে পারবেন।

ধারা ৯ ঘসাংগঠনিক সম্পাদক ও সহসাংগঠনিক সম্পাদকঃ তিনি সংগঠনের কার্যক্রমের পরিধি বিস্তার ও সদস্য/সদস্যা সংখ্যা বৃদ্ধি করার জন্য সক্রিয় থাকবেন। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুমতি সাপেক্ষে সভার দিন-ক্ষণ-স্থান নির্ধারণ, সভা আহবানসহ অন্যান্য সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন। সহ-সাধারণ সম্পাদক সকল বিষয়ে সাধারণ সম্পাদককে সহযোগিতা করবেন। সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সকল কার্যক্রমে সাংগঠনিক সম্পাদককে সহযোগিতা করবেন।

ধারা ৯ ঙ       অর্থ সম্পাদকঃ অর্থ সম্পাদক সংগঠনের তহবিল রক্ষণাবেক্ষণ করবেন। সংগঠনের আয় ও ব্যয়ের হিসাব রক্ষণ করবেন এবং সংগঠনের বার্ষিক সাধারণ সভায় তা পেশ করবেন।

ধারা ৯  চ      প্রচার সম্পাদকঃ প্রচার সম্পাদক সংগঠনের কল্যাণে যাবতীয় প্রকাশনা, জনসংযোগ ও প্রচার কার্যের দায়িত্ব পালন করবেন। সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের দেওয়া বিবৃতি তিনি প্রচার মাধ্যমে (বেতার, টেলিভিশন, পত্রিকা) পাঠাবেন। সাধারণ সভা ও কার্যনির্বাহী সভার তারিখ ও স্থান নির্ধারিত হওয়ার পর তা সংশ্লিষ্ট সদস্য/সদস্যাদেরকে অবহিত করবেন।

ধারা ৯ ছ       সাংস্কৃতিক সম্পাদকঃ সাংস্কৃতিক সম্পাদক সংগঠনের সংস্কৃতি সম্পর্কিত কার্যক্রম ও অনুষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করবেন। শিক্ষামূলক কার্যক্রম আয়োজন ও পরিচালনা করবেন। তিনি জাপানে বা বাংলাদেশে অবস্থিত অন্যান্য সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্য/সদস্যা, শিল্পী /কলাকুশলীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করবেন।

ধারা ৯ জ      সদস্যা/সদস্যাঃ একজন সদস্য/সদস্যা সংগঠনের পদহীন সম্পাদক হিসাবে সদা প্রস্তুত থাকবেন ও অন্যান্য সম্পাদকদের সহযোগীর ভূমিকা পালন করবেন। কোনো সম্পাদকের অনুপস্থিতিতে উক্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করবেন। সভাপতি নির্দেশিত যে কোনো দায়িত্ব পালন করবেন।

১০ কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচন (ইলেকশন) বা নির্ধারণ (সিলেকশন)

ধারা ১০ কজাপান-বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সভায় উপস্থিত সাধারণ সদস্য/সদস্যাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের ভিত্তিতে কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচন (ইলেকশন) অনুষ্ঠিত হবে।

ধারা ১০ খনির্বাচনের দিন সাধারণ সভায় উপস্থিত ভোটারদের মধ্য হতে, ধারা ৭ ক ০৩ মোতাবেক, একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং দুই জন সহকারী নির্বাচন কমিশনার নির্বাচিত হবেন। কোনো কারণে ঐ দিনই নির্বাচন করা সম্ভব না হলে নির্বাচন কমিশন পরবর্তী এক মাসের মধ্যে কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন করতে বাধ্য থাকবেন।

ধারা ১০ গনির্বাচন কমিশনার নির্বাচিত হওয়ার পর পূর্ববর্তী কার্যনির্বাহী পরিষদ সভাপতির নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের কাছে পদত্যাগ করবেন। 

ধারা ১০ ঘনির্বাচন কমিশন গোপন ব্যালটের মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী কোন একটি পদে অথবা সকল পদে নির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

ধারা ১০ ঙ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হলে ভোটারগণকে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে। অনুপস্থিত ব্যক্তি ভোটাধিকার প্রয়োগের অযোগ্য বলে গণ্য হবেন।

ধারা ১০ চ       সাধারণ সদস্য/সদস্যাদের মধ্য থেকে কেউ প্রার্থী হিসেবে অনুপস্থিত ব্যক্তির নাম প্রস্তাব করতে পারবেন ও অনিবার্য কারণে অনুপস্থিত ব্যক্তি প্রার্থি হতে পারবেন। তবে ভোটর দিনে সকল প্রার্থীকে উপস্থিত থাকতে হবে। অনিবার্য কারণে কোনো প্রার্থী ভোটের দিনে উপস্থিত থাকতে না পারলে, নির্বাচনের কমপক্ষে এক সপ্তাহ আগে তা লিখিত ভাবে নির্বাচন কমিশনকে জানাতে হবে এবং এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। কোনো প্রার্থী একাধিক পদের জন্য প্রার্থী হতে পারবেন না।

ধারা ১০ ছ      কোন একটি পদে অথবা সকল পদে যদি নির্বাচন করার প্রয়োজন না থাকে, সেই ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠের নির্ধারণের (সিলেকশন) ভিত্তিতে কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠিত হবে।

ধারা ১০ জ     নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা, বিজয়ী এবং বিজিত উভয়েই মেনে নিতে বাধ্য থাকবেন।

ধারা ১০ ঝ     চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষনার পর, নতুন কার্যনির্বাহী পরিষদের নিকট দায়িত্ব হস্তান্তরের মাধ্যমে তিন সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচন কমিশন বিলুপ্ত হবে।

ধারা ১০ ঞ    কার্য নির্বাহী পরিষদের মেয়াদকাল, দায়িত্ব গ্রহণ করার তারিখ হতে পরবর্তী দুই (২) বৎসর স্থায়ী হবে।

সমিতির আর্থিক ব্যবস্থা (তহবিল)

ধারা ১১ ক     প্রাথমিক এবং সাধারণ সদস্য/সদস্যাদের নিবন্ধন ফি ও মাসিক চাঁদা সংগঠনের প্রাথমিক আয়ের উৎস হিসাবে বিবেচিত হবে।

ধারা ১১ খ      নিবন্ধন ফি ও মাসিক চাঁদার হার সাধারণ সভা নির্ধারণ করবেন। প্রয়োজনে বিশেষ কর্মসূচী প্রণয়ন করে সংগঠনের জন্য অর্থ সংগ্রহ করা যাবে।

ধারা ১১ গ      সংগঠনের কোনো কর্মসূচী বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হলে এবং আয়ের উৎস না থাকলে স্থায়ী সদস্য /সদস্যাগণ অতিরিক্ত চাঁদা দিয়ে ব্যয় ভার বহন করবেন।

ধারা ১১ ঘ      গঠনতন্ত্রের পরিপন্থী না হলে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান অথবা যে কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে আর্থিক অথবা অন্য কোনো সহযোগিতা গ্রহণ করা যাবে। তবে তা কার্যনির্বাহী পরিষদের সিদ্ধান্তক্রমে ও পরবর্তী সাধারণ সভায় অনুমোদিত হতে হবে।

ধারা ১১ ঙ       সংগঠন সংক্রান্ত /সম্পর্কিত স্মরণিকা প্রকাশ করে কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিজ্ঞাপন বাবদ অর্থ সংগ্রহ করে ফান্ড তৈরী করা যাবে। তবে তা কার্যনির্বাহী পরিষদের সিদ্ধান্তক্রমে ও পরবর্তী সাধারণ সভায় অনুমোদিত হতে হবে।

ধারা ১১ চ      আয়-ব্যয়ের হিসাব-নিকাশে স্বচ্ছতা রক্ষার জন্য, বার্ষিক সাধারণ সভার কমপক্ষে একমাস আগে সাধারণ সদস্য/সদস্যাদের মধ্য থেকে তিন সদস্য/সদস্যা বিশিষ্ট অডিট কমিটি গঠন করা হবে। সংগঠনের আয়–ব্যয়ের সকল হিসাব, অডিট কমিটি পরীক্ষা করে দেখবে ও সেই মোতাবেক অর্থ সম্পাদক বার্ষিক সাধারণ সভায় সংগঠনের আয়-ব্যয়ের হিসাব-নিকাশ পেশ করবেন।

ধারা ১১ ছ      সংগঠনের নামে ব্যাংক একাউন্ট খোলা যাবে যা সভাপতি ও অর্থ সম্পাদক যৌথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করবেন।

১২ সভা আহবান ও সভা চলাকালীন নিয়মাবলী

ধারা ১২ ক     সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পরামর্শক্রমে সাংগঠনিক সম্পাদক সাধারণ সভা, কার্যনির্বাহী সভা, বিশেষ সভা আহবান করবেন এবং সভার নোটিশ অন্তত এক সপ্তাহ আগে সংশ্লিষ্ট সকলকে অবহিত করবেন।

ধারা ১২ খ    উপস্থিত সদস্য/সদস্যাদের নিয়ে যথাসময়ে সভা আরম্ভ করতে হবে। বিলম্বে উপস্থিত সদস্য /সদস্যা পরে কার্যক্রম সম্পর্কে জেনে নেবেন।

ধারা ১২ গ      সভা চলাকালীন সময়ে সভাপতির অনুমতি নিয়ে বক্তব্য দিতে হবে।

ধারা ১২ ঘ     সংগঠনের গঠনতন্ত্র সংশোধনী ও অন্যান্য সমপর্যায়ের প্রস্তাব সাধারণ সভার অন্তত এক সপ্তাহ আগে সভাপতি বরাবর লিখিত আকারে জমা দিতে হবে। গৃহীত সংশোধনী সমূহ মূল গঠনতন্ত্রের সাথে সংযোজনী হিসেবে সন্নিবেশিত হবে।

গঠনতন্ত্র  রচনা

         এই গঠনতন্ত্রটি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য গোলাম মাসুম জিকো,  উপদেষ্টা ডাঃ শেখ আলীমুজ্জামান এবং উপদেষ্টা অজিত কুমার বড়ুয়া রচনা করেছেন।